বালৃুরপাড় রিয়েল এস্টেট (ব্লগ)

জমি সংক্রান্ত আইন ও সমস্যর সমাধান এখানেই

রেজিস্ট্রি করিতে অস্বীকৃতির সম্পর্কিত

ধারা-৭১ (রেজিস্ট্রারের রেজিস্ট্রিকরণে অস্বীকৃতি)
উপধারা-(১) প্রত্যেক সাব-রেজিস্ট্রার, দলিল সংশ্লিষ্ট তাঁহার উপজিলায় অবস্থিত নয়, এই কারণ ছাড়া অন্য কোনো কারণে দলিল রেজিস্ট্রি করিতে অস্বীকার করিলে ঐ মর্মে আদেশ প্রদান করিবেনও ২ নং বহিতে অস্বীকৃতির কারণ এবং উক্ত দলিলের উপর ”রেজিস্ট্রিকরণে অস্বীকৃতি” শব্দ লিপিবদ্ধ করিবেন এবং সম্পাদনকারী বা দলিল মোতাবেক দাবিদার এমন কোন ব্যক্তি কতৃর্ক দরখাস্ত করা হইলে বিনা-খরচে ও অবিলম্বে লিপিবদ্ধকরণসমূহের একটি নকল প্রদান করিবেন ।
উপধারা-(২) কোনো রেজিস্ট্রিকারী অফিসার এই আইনের অতঃপর বর্ণিত বিধানসমূহ অনুযায়ী রেজিস্ট্রি করিবার আদেশ না পাওয়া পর্যন্ত ঐরূপ রেজিস্ট্রিকরণ-অস্বীকৃত দলিল গ্রহণ করিতে পারিবেন না ।
ধারা-৭২ (রেজিস্ট্রারের আদেশে সাব-রেজিস্ট্রার রেজিস্ট্রেশন করিতে অস্বীকৃতি জানাইলে আপিল করা যাইবে)
উপধারা-(১) সম্পাদনের অসম্মতি ছাড়া অন্য কোনো কারণে সাব-রেজিস্ট্রার কতৃর্ক রেজিস্ট্রিকরণের (রেজিস্ট্রিকরণ বাধ্যতামূলকই হউক বা এচ্ছিক হউক) জন্য দলিল গ্রহণের অস্বীকৃতির আদেশ প্রদত্ত হইলে তাঁহার উর্ধ্বতন রেজিস্ট্রারের নিযুক্ত আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা যাইবে এবং উক্ত আপিল আদেশ প্রদানের তারিখ হইতে ৩০ দিনের মধ্যে করা হইলে রেজিস্ট্রার উল্টাইতে বা পরিবর্তন করিতে পারেন ।উপধারা-(২) রেজিস্ট্রার যদি দলিলটি রেজিস্ট্রিকৃত হইবে বলিয়া নির্দেশ দেন এবং উহা যদি উক্ত নির্দেশ দানের ৩০ দিনের মধ্যে সাব-রেজিস্ট্রারের নিকট দাখিল করা হয়, তবে তিনি উক্ত আদেশ পালন করিবেন এবং যতদুর সম্ভব ৫৮, ৫৯ এবং ৬০ ধারায় নির্ধারিত পদ্ধতি অনুসরণ করিবেন এবং এই দলিল প্রথম যেইদিন রেজিস্ট্রিকরণের জন্য দাখিল করা হইয়াছিল ঐদিন হইতে উক্ত রেজিস্ট্রিকরণ কার্যকরী হইবে ।
ধারা-৭৩ (সম্পাদনে অস্বীকৃতির দরুন সাব-রেজিস্ট্রারের নিকট আবেদন)
উপধারা-(১) দলিল সম্পাদনকারী অথবা তাঁহার প্রতিনিধি বা মনোনীত ব্যক্তি কতৃর্ক দলিল সম্পাদনে অসম্মতির কারণে যখন কোনো সাব-রেজিস্ট্রার দলিল রেজিস্ট্রি করিতে অস্বীকার করেন, তখন উক্ত দলিলে দাবিদার বা পূর্ববর্ণিতভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত তাঁহার কোনো প্রতিনিধি, মনোনীত বা এজেন্ট উক্ত অস্বীকৃতি জ্ঞাপনের তারিখ হইতে ৩০ দিনের মধ্যে ঐ সাব-রেজিস্ট্রারের উর্ধ্বতন রেজিস্ট্রারের নিকট উক্ত দলিল রেজিস্ট্রি করাইবার অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য দরখাস্ত করিতে পারেন ।


ঐরূপ দরখাস্ত লিখিতভাবে করিতে হইবে এবং উহার সহিত ৭১ ধারা অনুযায়ী লিপিবদ্ধ কারণসমূহের একটি নকল প্রেরণ করিতে হইবে এবং আরজিসমূহে আইন অনুযায়ী যেই পদ্ধতিতে ”সত্যপাঠ” করা ঐরূপ পদ্ধতিতে দরখাস্তকারী দরখাস্তের বিবরণ ”সত্যপাঠ” করিবেন ।ধারা-৭৪ (অনুরূপ দরখাস্তপ্রাপ্তির পর রেজিস্ট্রার কতৃর্ক অবলম্বিত পদ্ধতি)
এইরূপ ক্ষেত্রে এবং যে ক্ষেত্রে রেজিস্ট্রারের সম্মুখে রেজিস্ট্রিকরণের জন্য দাখিলকৃত দলিল সম্পাদনের পূবোর্র্ক্তভাবে অসম্মতি জ্ঞাপন করা হয় যেই ক্ষেত্রে রেজিস্ট্রার সুবিধা অনুযায়ী যত শীঘ্র সম্ভব নিম্নোক্ত বিষয়সমূহ তদন্ত করিবেন ।
    (ক) দলিলটি সত্যই সম্পাদিত হইয়াছে কিনা;
    (খ) ক্ষেত্রবিশেষে দরখাস্তকারী অথবা রেজিস্ট্রিকরণের জন্য দলিল দাখিলকারী কতৃর্ক সেই সময়ে বলবত্‍ আইনের শর্তসমূহ পালন করা হইয়াছে কিনা, যাহার ফলে দলিল রেজিস্ট্রি করাইতে তাহারা অধিকারী হইবে ।
ধারা-৭৫ (রেজিস্ট্রি করিবার জন্য রেজিস্ট্রারের আদেশ এবং তত্পরবর্তী পদ্ধতি)
উপধারা-(১) রেজিস্ট্রার যদি দেখেন যে, দলিলটি সত্যই সম্পাদিত হইয়াছে এবং শতর্সমূহ পালন করা হইয়াছে, তাহা হইলে তিনি দলিলটি রেজিস্ট্রি করিতে আদেশ দিবেন ।
উপধারা-(২) ঐরূপ আদেশদানের ৩০ দিনের মধ্যে দলিলটি রেজিস্ট্রিকরণের জন্য দাখিল করা হইলে রেজিস্ট্রিকারী অফিসার উক্ত আদেশ পালন করিবেন এবং উহার পর যতদূর সম্ভব ৫৮, ৫৯ এবং ৬০ ধারায় নির্ধারিত পদ্ধতি অনুসরণ করিবেন ।
উপধারা-(৩) দলিলটি প্রথম যেই দিন রেজিস্ট্রিকরণের জন্য দাখিল করা হইয়াছিল উক্ত রেজিস্ট্রিকরণ সেই দিনই সম্পন্ন হইয়াছে বলিয়া কার্যকরী হইবে ।
উপধারা-(৪) রেজিস্ট্রার ইচ্ছা করিলে যে-কোনো দেওয়ানী আদালতের ন্যায় ৭৪ ধারা অনুযায়ী কোনোরূপ তদন্তের উদ্দেশ্যে সাক্ষিগণের উপর সমন জারি করিতে বা তাহাদের উপস্থিত হইতে এবং সাক্ষ্য দিতে বাধ্য করিতে পারেন এবং তাহার দ্বারা এইরূপ তদন্তের খরচের সম্পূর্ণ বা কোনো অংশ প্রদত্ত হইলে সেই সম্পর্কে নির্দেশ দিতে পারেন এবং ১৯০৮ সনের দেওয়ানী কার্যবিধি অনুযায়ী কোনো মোকদ্দমায় মঞ্জুরকৃত খরচের ন্যায় উক্ত খরচ আদায় করা হইবে ।
ধারা-৭৬ (রেজিস্ট্রার কর্তৃক অস্বীকৃতির আদেশ)
উপধারা-(১) প্রত্যেক রেজিস্ট্রার :
    (ক) সংশ্লিষ্ট সম্পত্তি তাঁহার জিলায় অবস্থিত নহে অথবা দলিলটি কোনো একজন সাব-রেজিস্ট্রারের অফিসে রেজিস্ট্রিকতৃ হইবে-এই কারণ ছাড়া অন্য কোনো কারণে দলিল রেজিস্ট্রি করিতে অঙ্গীকার করিলে, অথবা, 
    (খ) ৭২ বা ৭৫ ধারা অনুযায়ী দলিল রেজিস্ট্রি করিবার নির্দেশ দিতে অস্বীকার করিলে,
    অস্বীকৃতির আদেশ, নিবেদন এবং ঐরূপ আদেশের কারণসমূহ ২নং বহিতে লিপিবদ্ধ করিবেন এবং সম্পাদনকারীর বা দলিল মোতাবেক দাবিদার কোনো ব্যক্তি কতৃর্ক আবেদন করা হইলে অকারণ বিলম্ব না করিয়া উক্ত লিপিবদ্ধ কারণসমূহের একটি নকল প্রদান করিবেন ।
উপধারা-(২) এই ধারা অথবা ৭২ ধারা অনুযায়ী রেজিস্ট্রার কতৃর্ক প্রদত্ত কোনো আদেশের বিরুদ্ধে আপিল চলিবে না ।
ধারা-৭৭ (রেজিস্ট্রারের অস্বীকৃতির আদেশের ক্ষেত্রে দেওয়ানী মামলা)
উপধারা-(১) যেই ক্ষেত্রে রেজিস্ট্রার ৭২ বা ৭৬ ধারা অনুযায়ী দলিল রেজিস্ট্রি করিবার আদেশ দিতে অস্বীকার করেন, সেই ক্ষেত্রে ঐ দলিল মোতাবেক দাবিদার অথবা তাহার প্রতিনিধি মনোনীত ব্যক্তি বা এজেন্ট উক্ত অস্বীকৃতির ৩০ দিনের মধ্যে যে দেওয়ানী আদালতের আদিশ এখতিয়ারাধীন উক্ত রেজিস্ট্রি অফিস অবস্থিত, সেই আদালতে ডিক্রী প্রদানের ৩০ দিনের মধ্যে দলিলটি রেজিস্ট্রি করিবার জন্য সংশ্লিষ্ট রেজিস্ট্রি অফিসে দাখিল করা হইলে উহা রেজিস্ট্রি করিতে হইবে, এই মর্মে ডিক্রি প্রাপ্তির জন্য মামলা দায়ের করিতে পারেন ।

আপনিকি ঢাকায় প্লট/ফ্ল্যাট/জমি ক্রয়ের কথা ভাবছেন? আপনার পছন্দের প্লট/ফ্ল্যাট/জমিটি আমাদের কাছেই আছে।

উপধারা-(২) এইরূপ কোনো ডিক্রি অনুযায়ী রেজিস্ট্রিকরণের জন্য দাখিলকৃত দলিলপত্রের ক্ষেত্রে ৭৫ ধারার (২) এবং (৩) উপধারার বিধানসমূহ হুবহু প্রযোজ্য হইবে । এই আইনে যাহাই থাকুক না কেন, উক্ত দলিলই ঐরূপ মামলায় সাক্ষ্য হিসাবে গ্রহণযোগ্য হইবে ।
ধারা-৮০ (দাখিলের সময় দেয় ফী)
এই আইন মোতাবেক সর্বপ্রথম ফী দলিল দাখিলের সময় দেওয়া যাইবে ।
ধারা-৮১ (ক্ষতি সাধনের উদ্দেশ্যে দলিলাদির ক্রুটিপূর্ণ পৃষ্ঠাংকন, নকল, অনুবাদ কিংবা রেজিস্ট্রি করার দণ্ড)
এই আইন অনুসারে নিযুক্ত প্রত্যেক রেজিস্ট্রিকারী অফিসার এবং এই আইনের উদ্দেশ্যে তাঁহার অফিসে নিয়োজিত প্রত্যেক ব্যক্তি এই বিধান অনুযায়ী দাখিলকৃত বা জমা-দেওয়া কোনো দলিল পৃষ্ঠাংকন, নকল, অনুবাদ অথবা রেজিস্ট্রিকরণের জন্য ভারপ্রাপ্ত হইয়া দণ্ডবিধিতে বর্ণিত ‘ক্ষতি’ সাধনের উদ্দেশ্যে অথবা ক্ষতি সাধিত হইতে পারে এইরূপ জানা সত্বেও যদি অশুদ্ধ বলিয়া জানেন বা বিশ্বাস করেন, এইরূপ কোনো পদ্ধতিতে উক্ত দলিল পৃষ্ঠাংকন, নকল, অনুবাদ বা রেজিস্ট্রি করেন, তবে ৭ বত্সরের কারাদণ্ড বা জরিমানা অথবা উভয় প্রকারে দণ্ডনীয় হইবেন
ধারা-৮২ (মিথ্যা, বিবৃতি দান, মিথ্যা নকল বা অনুবাদ প্রদান, মিথ্যা পরিচয় দান ও অনুরূপ কার্যে সহায়তার দণ্ড)
(ক) এই আইন অনুযায়ী কোনো কার্যক্রম বা তদন্ত পরিচালনা করলে এই আইন কার্যকরীকরণে রত কোনো অফিসারের সম্মুখে শপথ গ্রহণ করিয়া বা না করিয়া, নথিভূক্ত হউক বা না হউক, কোনো মিথ্যা বিবৃতি স্বেচ্ছায় দান করিলেন, অথবা
(খ) ১৯ কিংবা ২১ ধারা অনুযায়ী কার্য পরিচালনাকালে রেজিস্ট্রিকারী অফিসারের নিকট কোনো দলিলের মিথ্যা নকল বা অনুবাদ অথবা কোনো নকশা কিংবা কোনো পরিকল্পনার মিথ্যা নকল স্বেচ্ছায় প্রদান করিলে, অথবা
(গ) এই আইন অনুসারে কোনো কার্যক্রম বা তদন্ত পরিচালনা কালে কোনো ব্যক্তিরূপে নিজেকে পরিচয় দিলে বা ঐরূপ কোনো দলিল দাখিল করিলে অথবা কোনো স্বীকৃতি বা বিবৃতি দিলে কিংবা কোনো কমিশন বা সমন দেওয়া হইলে, অথবা
(ঘ) এই আইনের দণ্ডনীয় কোনো কার্যের সহায়ক হইলে; ৭ বত্সরের কারাদণ্ড বা জরিমানা অথবা উভয় প্রকারের দণ্ডে দণ্ডনীয় হইবে
ধারা-৮৩ (রেজিস্ট্রিকারী অফিসার অভিযোগ আনয়ন করিতে পারেন)
উপধারা-(১) কোনো অপরাধ সরকারি পদে অধিষ্ঠিত ব্যক্তি হিসাবে রেজিস্ট্রিকারী অফিসারের গোচরীভূত হইলে যেই এলাকায় বা উপজিলায় উক্ত অপরাধ অনুষ্ঠিত হইয়াছে সেই স্থানে ইন্সপেক্টর জেনারেল, রেজিস্ট্রার বা সাব-রেজিস্ট্রার কতৃর্ক অথবা তাহাদের অনুমতিক্রমে অপরাধীকে যথারীতি ফৌজদারীতে সোপর্দ করা হইবে
উপধারা-(২) এই আইনে দণ্ডনীয় অপরাধ এইরূপ কোর্ট বা অফিসার কতৃর্ক বিচার হইবে, যাহাদের ক্ষমতা-দ্বিতীয় শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেটের নিচে নহে ।
ধারা-৮৪ (রেজিস্ট্রিকারী অফিসারগণ সরকারি কর্মচারী হিসাবে গণ্য হইবেন )
উপধারা-(১) এই আইন অনুসারে প্রত্যেক রেজিস্ট্রিকারী অফিসার দণ্ডবিধিতে বর্ণিত সরকারি কমচারী বলিয়া গণ্য হইবেন
উপধারা-(২) এইরূপ রেজিস্ট্রিকারী অফিসারের প্রয়োজনে প্রত্যেক ব্যক্তি তাহার নিকট সংবাদ প্রদান করিতে আইনত বাধ্য থাকিবেন
উপধারা-(৩) এই আইন মোতাবেক কোনো কাযক্রম দণ্ডবিধির ২৮ ধারায় বর্ণিত বিচার-বিষয়ক কার্যক্রম শব্দের অন্তর্ভুক্ত বলিয়া গণ্য হইবে
তথ্যসুত্র : রেজিস্ট্রেশন অাইনের ভাষ্য , লেখক- গাজী শামসুর রহমান।

 

Please follow and like us:

Leave a Reply

Your email address will not be published.