M/s. বালুরপাড় হোল্ডিংস (ব্লগ)

জমি সংক্রান্ত আইন ও সমস্যর সমাধান এখানেই

১৯০৮ সালের তামাদি আইনের গুরুত্বপূর্ণ ধারা সমুহ (পর্ব ২)

১৯০৮ সালের তামাদি আইনের গুরুত্বপূর্ণ ধারা সমুহ (পর্ব ২)

25 May, 2016

মামলা, আপিল দরখাস্তের তামাদি

ধারা ( তামাদি মেয়াদ অন্তে দায়েরকৃত মামলা ইত্যাদি খারিজ (Dismissal of suits, etc, Instituted, etc, after period of Limitation) :

অত্র আইনের ৪ হইতে ২৫ ধারার উভয় ধারাসহ সাপেক্ষে প্রথম তফসিলে এতদুদ্দেশ্যে নির্ধারিত  তামাদি মেয়াদ উত্তীর্ণ হইবার পর মামলা, আপিল বা দরখাস্ত রুজু, দায়ের বা দাখিল করা হইলে বিবাদীপক্ষ যদি তামাদির প্রশ্ন উত্থাপন নাও করে, তারপরও উক্ত মামলা, আপিল বা দরখাস্ত খারিজ বলিয়া বিবেচিত হইবে

ব্যাখ্যা

সাধারণত উপযুক্ত কর্মচারির নিকট আরজি উপস্থিত করিলে, নিঃস্ব হইলে, নিঃস্বভাবে মামলা করিবার অনুমতির জন্য দরখাস্ত করিলে এবং আদালত, যেইখানে কোম্পানি গুটাইয়া ফেলিতেছে; সেইখানে কোম্পানির বিরুদ্ধে দাবির ক্ষেত্রে দাবিদার সরকারী অবসায়কের নিকট দাবি প্রেরণ করিলে মামলা দায়ের করা হয় ।

ধারা (আদালত বন্ধ থাকা অবস্থায় যখন তামাদির মেয়াদ উত্তীর্ণ হয় (Where court is closed when period expires) :

যেইক্ষেত্রে কোনো মামলা, আপিল বা দরখাস্তের জন্য নির্দিষ্ট তামাদির মেয়াদ আদালত বন্ধ থাকার দিন উত্তীর্ণ হয়, সেইক্ষেত্রে আদালত পুনরায় খুলিবার দিন উক্ত মামলা, আপিল বা দরখাস্ত রুজু দায়ের বা রুজু করা যাইবে ।

ধারা (ক্ষেত্র বিশেষে মেয়াদ বৃদ্ধিকরণ (Extension of period in certain cases) :

কোনো আপিল বা রায় পুনর্বিচার বা পুনরীক্ষণের দরখাস্ত বা আপিল করিবার অনুমতি প্রার্থনার দরখাস্ত বা অন্য কোনো দরখাস্ত, যাহার উপর এই ধারা বর্তমানে বলবত্‍ কোনো আইনের দ্বারা বা অধীনে প্রযোজ্য করা হয়, উহার নির্দিষ্ট তামাদির মেয়াদ উত্তীর্ণ হইবার পর গৃহীত হইতে পারে, যদি আপিলকারী বা দরখাস্তকারী এই মর্মে আদালতের সন্তুষ্টি সাধন করিয়া থাকে যে, নির্ধারিত  মেয়াদের মধ্যে আপিল বা দরখাস্তটি দাখিল না করিবার যথেষ্ট কারণ ছিল।

ব্যাখ্যাঃ

আপিলকারী  বা দরখাস্তকারী যদি হাইকোর্ট বিভাগের কোনো আদেশ, প্রথা বা রায় দ্বারা তামাদির মেয়াদ গণনা বা নির্ধারণ করিতে বিভ্রান্ত হইয়া থাকেন, তবে তাহা বর্তমান ধারা অনুযায়ী যথেষ্ট কারণ বলিয়া গণ্য হইবে ।

ধারা৬। বৈধ অপারগতা (Legal disability) :

উপধারা-() যেইক্ষেত্রে মামলা বা কার্যধারা দায়ের করিবার কিংবা ডিংক্রী জারির জন্য দরখাস্ত দাখিলের অধিকারী ব্যক্তি, যেই সময় হইতে তামাদির মেয়াদ গণনা করিতে হইবে, সেই সময় নাবালক, উন্মাদ বা জড়বুদ্ধি থাকে, সেইক্ষেত্রে উক্ত ব্যক্তি তাহার উপরোক্ত অপারগতার অবসান হইবার পর, অপারগতা না থাকিলে, প্রথম তফসিলের তৃতীয় স্তম্ভে অথবা ১৯০৮ সালের দেওয়ানী কার্যবিধির  ৪৮ ধারায় বর্ণিত যেই মেয়াদের মধ্যে সে উহা করিতে পারিতো,  সেই মেয়াদের মধ্যে মামলা বা কার্যধারা দায়ের কিংবা দরখাস্ত দাখিল করিতে পারিবে।

উপধারা-() যেইক্ষেত্রে অনুরূপ কোনো ব্যক্তি, যেই সময় হইতে তামাদির মেয়াদ গণনা করিতে হইবে, সেই সময় উপরে বর্ণিত যেই কোনো দুইটি অপারগতার অবসান হইবার পূর্বেই সে আরেকটি অপারগতায় পতিত হয়, সেইক্ষেত্রে সেই ব্যক্তি তাহার উভয় অপারগতার অবসান হইবার পর, অপারগতা না থাকিলে, উপরে বর্ণিত যেই মেয়াদের মধ্যে সে উহা করিতে পারিতো,  সেই মেয়াদের মধ্যে মামলা দায়ের কিংবা দরখাস্ত দাখিল করিতে পারিবে।

উপধারা-()যেইক্ষেত্রে অনুরূপ কোনো ব্যক্তির মৃত্যু পর্যন্ত তাহার অপারগতা অব্যাহত থাকে, সেইক্ষেত্রে তাহার আইনানুগ প্রতিনিধি ঐ ব্যক্তির মৃত্যুর পর অপারগতা না থাকিলে উপরে বর্ণিত যেই মেয়াদের মধ্যে উহা করা যাইতো,  সেই মেয়াদের মধ্যে মামলা দায়ের কিংবা দাখিল করিতে পারিবে।

উপধারা-() যেইক্ষেত্রে উপরোক্ত ব্যক্তির মৃত্যুর তারিখে তাহার আইনানুগ প্রতিনিধি অনুরূপ কোনো অপারগতায় পতিত হয়, সেইক্ষেত্রে (১) ও (২) উপধারায় বিধৃত বিধানসমূহ প্রযোজ্য হইবে।

উদাহরণ :

(ক) ‘ক’ নাবালক থাকাকালে একটা নৌকার ভাড়া আদায়ের জন্য মামলা করিবার অধিকারপ্রাপ্ত হয়। ইহার চার বত্‍সর পর সে সাবালক হয় । সাবালক হইবার তারিখ হইতে তিন

বত্‍সরের মধ্যে যেই কোনো সময় উক্ত মামলা দায়ের করিতে পারিবে ।

(খ) ‘খ’  নাবালক থাকাকালে একটা মামলা করিবার অধিকারপ্রাপ্ত হয়। এই অধিকার লাভের পর কিন্তু নাবালক থাকাকালেই সে উম্মাদ হইয়া পড়ে ।  তাহার নাবালকত্ব ও উম্মাদ অবস্থার অবসানের তারিখ হইতে তাহার তামাদি মেয়াদ গণনা শুরু হইবে ।

(গ) ‘গ’  নাবালক থাকাকালে একটা মামলা করিবার অধিকারপ্রাপ্ত হয় । সাবালক হইবার পূর্বে ’ গ’  মারা যায় এবং তাহার নাবালক ছেলে ’ খ’   তাহার উত্তরাধিকারী হয় । ’ গ’ সাবালক হইবার তারিখ হইতে তাহার তামাদির মেয়াদ গণনা শুরু হইবে ।

ধারা (কতিপয় বাদী অথবা দরখাস্তকারীর একজনের অপারগতা (Disability of one of several plaintiffs or applicants) :

যেইক্ষেত্রে কতিপয় ব্যক্তি মামলা বা কার্যধারা দায়ের করিবার অথবা ডিক্রী জারির জন্য দরখাস্ত দাখিল করিবার অধিকারী এবং তাহাদের একজন উপরোক্ত প্রকারের অপারগতা এবং তাহার সম্মতি ছাড়াই দায়মুক্ত করা চলে, সেই ক্ষেত্রে তাহাদের সকলের প্রতিকূলেই তামাদির মেয়াদ অতিবাহিত হইতে থাকিবে । কিন্তু যেইক্ষেত্রে অনুরূপভাবে দায়মুক্ত করিবার যোগ্যতা অর্জন না করা পর্যন্ত অথবা উপরোক্ত অপারগতার অবসান না হওয়া পর্যন্ত তাহাদের কাহারও প্রতিকূলে তামাদির মেয়াদ অতিবাহিত হইবে না ।

উদাহরণ :

(ক) ‘ক’  একটা ফার্মের নিকট দেনাগ্রস্ত হয় । খ, গ ও ঘ সেই ফার্মের অংশীদার । খ উম্মাদ এবং গ নাবালক । খ এবং গ-এর সম্মতি ছাড়াই ঘ দেনাদার ’ ক’-কে দায়মুক্ত করিতে পারিবে  এইক্ষেত্রে খ, গ এবং ঘ সকলের প্রতিকূলেই তামাদি মেয়াদ অতিবাহিত হইবে ।

(খ) ‘ক’  একটা ফার্মের নিকট দেনাগ্রস্ত। চ, ছ এবং জ সেই ফার্মের অংশীদার । চ ও ছ উম্মাদ এবং নাবালক । চ অথবা ছ সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত কিংবা জ সাবালক না হওয়া পর্যন্ত কাহারও প্রতিকূলে তামাদির মেয়াদ অতিবাহিত হইবে না ।

ধারা (বিশেষ ব্যতিক্রম (Special exceptions) :

৬ অথবা ৭ ধারার কোনো কিছুই অগ্রক্রয়ের অধিকার বলবতের মামলায় প্রযোজ্য নহে । যেই মেয়াদের মধ্যে মামলা অবশ্যই দায়ের বা দরখাস্ত দাখিল করিতে হইবে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির অপারগতার অবসানে বা মৃত্যুর পর তাহা উক্ত ধারাদ্বয়ের কোনো কিছুই তিন বত্সরের অধিক বর্ধিত করিয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে না ।

উদাহরণ :

() ক নাবালক থাকাকালে মিরাস আদায়ের জন্য মামলা করিবার অধিকার লাভ করে। ইহার ১১ বত্‍সরপর সে সাবালক হয়। সাধারণ আইন অনুসারে ক মামলা দায়ের করিবার জন্য মাত্র অবশিষ্ট এক বত্‍সর সময় পায় । কিন্তু ৬ ধারা ও অত্র ধারা অনুসারে সে আরও দুই বত্‍সর অতিরিক্ত সময় পাইবে । অর্থাত্‍ সাবালক হইবার পর তিন বত্সরের মধ্যে সে মামলা দায়ের করিতে পারিবে ।

() ক উম্মাদ থাকাকালে বংশগত একটা পদ লাভের জন্য মামলা করিবার অধিকারপ্রাপ্ত হয় । ইহার ৬ বত্‍সর পর ক সুস্থ হয় । সাধারণ আইন অনুসারে ক সুস্থ হইবার ৬ বত্‍সরের মধ্যে মামলা দায়ের করিতে পারিবে   ৬ ধারা অত্র ধারার সহিত মিলাইয়া পড়িতে হইবে এবং তদানুসারে ক-এর মামলা দায়ের করিবার মেয়াদ আর বর্ধিত হইবে না ।

() ক নামক একজন জড়বুদ্ধি সম্পন্ন জমিদার প্রজার নিকট হইতে জমির দখল পুনরুদ্ধারের জন্য মামলা করিবার অধিকার লাভ করে । ইহার তিন বত্‍সর পর ক মারা যায় এবং মৃত্যুর দিন পর্যন্ত সে জড়বুদ্ধি সম্পন্ন থাকে । সাধারণ আইন অনুসারে ক-এর স্বত্বাধিকারী তাহার মৃত্যুর তারিখ হইতে নয় বত্সরের মধ্যে মামলা দায়ের করিতে পারিবে  ৬ ধারার সহিত অত্র ধারা মিলাইয়া পড়িতে হইবে এবং তদানুসারে উক্ত মেয়াদ আর বর্ধিত হইবে না; কিন্তু স্বত্বাধিকারী এই অধিকার লাভের সময় যদি তাহার কোনো অপারগতা থাকিয়া থাকে, তবে সেইক্ষেত্রে ইহার ব্যতিক্রম হইবে ।

ধারা (সময়ের অবিরাম চলন (Continuous running of time) :

একবার তামাদির মেয়াদ অতিবাহিত হইতে আরম্ভ হইলে পরবর্তী কোনো অপারগতা বা অক্ষমতার দ্বারা তাহা বন্ধ হইবে না ।

তবে শর্ত থাকে যে, যেইক্ষেত্রে পাওনাদারের সম্পত্তির ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব ন্যস্ত থাকিবে, ততদিন উক্ত দেনার টাকা আদায়ের মামলার মেয়াদ অতিবাহিত হওয়া স্থগিত থাকিবে ।

একবার তামাদির মেয়াদ উত্তীর্ণ হইতে শুরু হইলে তত্‍ পরবর্তী মামলা দায়েরের কোনো অযোগ্যতা বা অক্ষমতা উহা রোধ করিতে পারিবে না । তামাদি আইনের বিধান একটা চলমান প্রতিবন্ধকতা । তামাদি শুরু হইলে তাহা চলিতে থাকিবে । যাহার বিরুদ্ধে প্রতিকার প্রার্থণা করা হইবে, সেই বিবাদী যদি বাদীর দাবী স্বীকার না করিয়া থাকে,তাহা হইলে অন্য কোনো অজুহাতে তামাদি এড়ানো যাইবে না । বিবাদীর নিকট হইতে স্বীকৃতি আদায় করিতে হইলে তাহা অবশ্যই স্বচ্ছ এবং স্বাভাবিক হইতে হইবে ।

তবে শর্ত হইল, যেইক্ষেত্রে কোনো পাওনাদারকে দেনাদারের সম্পত্তি কারবার পরিচালনার পত্রনামা প্রদান করা হইয়াছে, ঐ পরিচালনা অব্যাহত থাকাকালে ঋণ উসুলের জন্য মামলা করিবার নির্ধারিত  মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়া পর্যন্ত মূলতবী থাকিবে ।

ধারা১০ (প্রকাশ্য অছি এবং তাহাদের প্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে মামলা (Suits against express trustees and their representatives)

তামাদি আইনে ইতিপূর্বে যাহাই থাকুক না কেন, যেই ব্যক্তির উপর সুনির্দিষ্ট কোনো উদ্দেশ্যে সম্পত্তি ট্রাস্ট ন্যস্ত হইয়াছে, তাহার বিরুদ্ধে বা তাহার আইনানুগ প্রতিনিধির বিরুদ্ধে বা স্বত্বর্পিত ব্যক্তির (মূল্যভিত্তিক পণ্যের বিনিময়ে স্বত্বার্পিত না হইয়া থাকিলে) তাহার বা তাহাদের হাতের অনুরূপ সম্পত্তির হিসাবের বা উহার আয়ের হিসাবের জন্য কোনো মামলা দায়ের করিতে হইলে তাহা কখনও সময়ের  দৈর্ঘ্যে বারিত হইবে না ।

এই ধারার উদ্দেশ্য সাধনকল্পে হিন্দু, মুসলিম বা বৌদ্ধ ধর্মীয় বা দাতব্য উদ্দেশ্যে উত্সর্গীকৃত কোনো সম্পত্তি সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে ট্রাষ্টে ন্যস্ত সম্পত্তি বলিয়া বিবেচিত হইবে এবং অনুরূপ সম্পত্তির ব্যবস্থাপক উহার অছি বলিয়া গণ্য হইবে ।

ধারা১১ ( বৈদেশিক চুক্তির উপর মামলা (Suits on foreign contracts) :

(১) বিদেশে সম্পাদিত চুক্তির উপর বাংলাদেশে যেইসব মামলা দায়ের করা হয়, সেইগুলি অত্র আইনে বিধৃত তামাদির বিধিসমূহের অধীন ।

(২) বিদেশে সম্পাদিত চুক্তির উপর বাংলাদেশে দায়েরকৃত মামলার ক্ষেত্রে বিদেশী কোনো আইনে তামাদি সংক্রান্ত বিধি জবাবস্বরূপ গ্রাহ্য হইবে না ।

তবে যদি সেই বিধি অনুসারে চুক্তিটির পরিসমাপ্তি ঘটিয়া থাকে এবং যদি উক্ত বিধি অনুসারে নির্ধারিত  সময়কালে সংশ্লিষ্ট পক্ষগণ সেই দেশে স্থায়ীভাবে বসবাস করিয়া থাকে, সেইক্ষেত্রে ইহার ব্যতিক্রম হইবে ।   

আপনিকি ঢাকায় প্লট/ফ্ল্যাট/জমি ক্রয়ের কথা ভাবছেন? আপনার পছন্দের প্লট/ফ্ল্যাট/জমিটি আমাদের কাছেই আছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *